টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বেড়াডোমা এলাকায় বিএনপি নেতা মো. আশরাফ মিয়ার বাড়িতে এসে বিনামূল্যে কবিরাজি চিকিৎসা দিচ্ছেন ঢাকার ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচিত কবিরাজ জয়নাল আবদীন। তাঁর কাছে চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে আসা মানুষ। চিকিৎসা নিতে আসা কয়েকজনের অভিজ্ঞতা ঘিরে এলাকায় তৈরি হয়েছে আলোচনা।
স্থানীয়দের দাবি, জয়নাল আবদীন প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস ধরে এ ধরনের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। তিনি চিকিৎসার বিনিময়ে কোনো টাকা-পয়সা বা অর্থসম্পদ গ্রহণ করেন না বলেও জানান তাঁরা।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জন্মগতভাবে কথা বলতে না পারা, হাঁটাচলায় অক্ষমতা এবং জিনের আছর হয়েছে বলে ধারণা করা ব্যক্তিদের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন এই কবিরাজ। তাঁর চিকিৎসায় কয়েকজন ভালো ফল পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
স্থানীয়দের বর্ণনা অনুযায়ী, জন্মের পর থেকে প্রায় ৩০ বছর কথা বলতে না পারা এক ব্যক্তি তাঁর চিকিৎসা নেওয়ার পর বাবা-মাকে ডাকতে পেরেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ছাড়া হাঁটতে না পারা একজন ব্যক্তিও হাঁটাচলা করতে পারছেন বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ জানিয়েছেন।
এসব ঘটনা নিয়ে বেড়াডোমা এলাকার মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, জয়নাল আবদীন ভণ্ড নন; তাঁরা তাঁর চিকিৎসায় উপকার পাওয়ার কথাও বলছেন। তবে এসব চিকিৎসার কার্যকারিতা ও সাফল্যের দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মগতভাবে কথা বলতে না পারা, হাঁটাচলায় সমস্যা কিংবা অন্যান্য শারীরিক ও মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে উপযুক্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এসব সমস্যার কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত।
বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার দাবি এবং কয়েকজনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের বেড়াডোমা এলাকায় এখন আলোচনায় রয়েছেন কবিরাজ জয়নাল আবদীন। তবে তাঁর চিকিৎসার প্রকৃত কার্যকারিতা নির্ধারণে যথাযথ চিকিৎসাবৈজ্ঞানিক মূল্যায়ন প্রয়োজন।
মন্তব্য