২৭ অক্টোবর ২০২৬

টাঙ্গাইলে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিল বাংলাদেশ লইয়ারস কাউন্সিল

facebook twitter whatsapp

ছবি: টাঙ্গাইলে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিল বাংলাদেশ লইয়ারস কাউন্সিল

আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

টাঙ্গাইলে নবীন আইনজীবীদের সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ লইয়ারস কাউন্সিলের টাঙ্গাইল জেলা শাখা। সোমবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির ১ নম্বর হলরুমে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নবীন আইনজীবীদের পেশাগত জীবনে সততা, নৈতিকতা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানবিক মূল্যবোধকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
বাংলাদেশ লইয়ারস কাউন্সিলের টাঙ্গাইল জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট সরকার কবির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির জেলা সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট আরিফুর রহমান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লইয়ারস কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট জসীম উদ্দিন সরকার বলেন, আইনজীবীদের সততা ও নৈতিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পেশাগত জীবনে নৈতিকতার গুরুত্ব অপরিসীম। নৈতিকতার মধ্য দিয়ে যে মানসিক শান্তি ও আত্মতৃপ্তি অর্জন করা যায়, তা অন্য কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনীয় নয়। একজন আইনজীবীর প্রধান দায়িত্ব হলো আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করা।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আইনজীবী সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা রয়েছে। এ ভূমিকা আরও কার্যকর করতে আইনজীবীদের পারস্পরিক বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে নবীন আইনজীবীদের পেশাগত দক্ষতা অর্জন, আইনের যথাযথ চর্চা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লইয়ারস কাউন্সিলের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ।
তিনি তাঁর বক্তব্যে দেশে হত্যাকাণ্ড বন্ধ এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য বিচার বিভাগকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, কার্যকর বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জন কঠিন।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ২০২৫ সালের  নভেম্বরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক করার বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল।পরবর্তী সময়ে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার এপ্রিলে সেই প্রজ্ঞাপন বাতিল করে দেয়। এর ফলে বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত করার দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তাঁর মতে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকর পৃথকীকরণ নিশ্চিত করা না গেলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
দেশের প্রচলিত আইনের বিভিন্ন অসংগতি তুলে ধরে তিনি আইনজীবীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে ন্যায়, ইনসাফ ও আইনি অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আইনজীবী সমাজকে দায়িত্বশীল ও ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লইয়ারস কাউন্সিলের টাঙ্গাইল জেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা আহসান হাবীব মাসুদ। তিনি নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে বলেন, সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও মানুষের অধিকার রক্ষায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তিগত ও সাংগঠনিক বিভেদ ভুলে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ঐক্যের ভিত্তিতে এগিয়ে যেতে হবে। বিভেদ নয়, ঐক্য ও সম্প্রীতির মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে নবীন আইনজীবীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান, নবীন আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদা হক, অ্যাডভোকেট আলমাস প্রমুখ।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে আইন পেশার মর্যাদা সমুন্নত রাখা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, বিচারপ্রার্থীদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, আইনজীবীরা শুধু একটি পেশাজীবী গোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন; বরং সমাজে ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নবীন আইনজীবীদের পেশাগত জীবনে সততা, নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও নৈতিক আদর্শ অনুসরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, নবীন আইনজীবীরা তাঁদের মেধা, যোগ্যতা ও পেশাগত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বিচারপ্রার্থীদের পাশে দাঁড়াবেন এবং দেশের বিচারব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব ও কার্যকর করতে অবদান রাখবেন।
অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নবীন আইনজীবীদের পেশাগত জীবনের নতুন যাত্রাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি আইনের শাসন, ন্যায়বিচার ও সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আইনজীবী সমাজের সম্মিলিত ভূমিকার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন বক্তারা।

Related Articles